কয়েকদিন আগে ব্লগে ধর্মীয় প্রচারনার বিষয়ে একটি পোষ্ট পড়লাম। আর ভাবুন তো প্রচারনাটা যদি অসুস্থ এবং ভ্রান্ত হয় তাহলে সরল সাধারন মানুষের জন্য সেটা কতটুকু বিপজ্জনক হতে পারে। কেবল ব্লগে নয়, ইন্টারনেটের সব ডালপালাতেই এধরনের কার্যক্রম জোরেশোরেই চলছে। আজ সেরকম কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার গল্পই বলছি।
গত ৮-৯ বছর ধরে আমি নিয়মিতভাবেই নেটে কিছুটা সময় থাকি। আর ইদানিংতো প্রায় সবসময়ই অন-লাইনে থকা হয়। ২০০৮ এর মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে একদিন দেখি একটি ইমেইল গ্রুপ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইমেইল আসছে। প্রথম দিকে একটু বিরক্ত লাগলেও লক্ষ্য করলাম অনেক মেইলে অনেক সুন্দর সুন্দর কনটেন্ট আছে। এছাড়া গ্রুপের এনভায়র্নমেন্টও বেশ ডিসেন্ট , তাই সাধারনত যা করা হয় সেই “আন-সাবসক্রাইব না করে এটাকে পর্যবেক্ষনে রাখলাম।
মজার মজার অনেক কনটেন্ট পাই, অনেক কবিতা, জোকস, গেমস, ছবি এইসব আরকি। একটু সময় নষ্ট হয় কিন্তু তারপরও গ্রুপটির সদস্য থেকে যাই। কিন্তু কখনও কখনও দু একটা মেইল দেখে একটু খটকা লাগে।
কেস-১.
একদিন একটা ইমেইল পেলাম, সেখানে দেখা যাচ্ছে চাঁদের একাংশের ছবি। মাঝখানে একটা রেখা বলা হচ্ছে,
Miracle of Prophet .................
The split of Moon 'Proved by Scientists'
Moon Split
…….
…..
এর পর ছবি এবং ছবির ওপর মুদ্রিত স্বতসিদ্ধের মত কিছু বানী। শেষে লেখা,
Please dont break this chain,
send it to all u know
আমি বিরক্ত হয়ে একটা উত্তর দেই সেটা গ্রুপেও আসে,
উত্তরটা ছিল,
Dear Friends,
When u provide scientific information there should mentioned authentic source. Otherwise
it can be considered as a spam.
When i was a school boy one day i found a hand leaflet. What was written there, is, one of three
astronomers who first landed in the moon (Neil Armstrong) converted to a Muslim after observing the
splitting line of moon.
After some more year i read some reputed scientific journal and an interview of scientist Neil Armstrong
and knew that the issue was not true at all.
I can't understand why people do such things. Where Islam it self doesn't encourage to do so.
Thanks,
..............
কেস-২.
এরপর আর একদিন এরকম আর একটা ইমেইল পেলাম্, তাতে লেখা,
Google Earth proves that the Prophet Muhammad (PBUH) is right-(MUST SEE)
..........
...........
How could someone 1400 years ago have shown the exact direction for kaba from a far away city without using the new aids needed for such a process?
Of course this a miracle
এখানে গুগল-আর্থ থেকে নেওয়া মক্কা, মদিনা শহরের কিছু ছবি সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এবং কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটছিল এমন জোর দাবী করা হয়েছে।
কেস-৩.
এরকম আর একটি ইমেইল পেলাম সেখানে বলা হয়েছে,
GOOD NEWS FOR MUSLIM BROTHERS
Sunita Williams ( First Indian woman who went on moon) accepted "ISLAM" Masha Allah, bcoz when they were on the moon, they saw towards EARTH, the entire EARTH looked dark, but 2 places on the EARTH looked like SPARKS (Roshni). They were shocked to see that and saw them with the help of telescope and................................
এর উত্তরে একজন মডারেটর লিখেছে,
Subhanallah....
Amra asolei onek besi souvaggoban jehetu amra Muslim family tei jonmo grohon korechi nobijir ummat hisabe.......
আসলে তথ্যটা পুরোটাই ডাঁহা মিথ্যা। চরম মিথ্যার এই চালাচালিতে বিরক্ত হয়ে শিমুল নামের একজন এবং আমি দুটো উত্তর দেই, উত্তর দুটো ছিল এরকম,
Salaam everybody,
I am in doubt about this mail especially the sentence 'Sunita Williams ( First Indian woman who went on moon)', so far i know she never went to moon, rather than she served as a flight engineer aboard the International Space Station. she was launched to the International Space Station with STS-116, aboard the shuttle Discovery, on December 9, 2006 to join the Expedition 14 crew. She launched with the crew of STS-116 on December 9, 2006, docking with the station on December 11, 2006. As a member of the Expedition-14 crew Suni Williams established a world record for females with four spacewalks totaling 29 hours and 17 minutes of EVA. During her increment in space, Suni Williams broke the existing record by Shannon Lucid, setting a new record for females of 195 days in space.
You can easily make this type of image....... even you can try using google earth or street view.
We should not circulate any unauthentical mess to anyone, it could have a negative impression on islam.
Shimul
UK
আমি লিখলাম,
Thanks Shimul. I am just getting tired on viewing these kind of email. But the most wondering thing is some one is spreading false scientific information and the other one (must be educated one) is commenting;
Subhanallah.... Amra asolei onek besi souvaggoban jehetu amra Muslim family tei jonmo grohon korechi nobijir ummat hisabe.......
Ekbar google-a search diao to sottota khuje ber kore jai. Ashole amra emon ek jati jara truth er cheya oloukik (kalponik holeo) jinish grohon korte beshi
pochhondo kori.
see what wiki says,
The claim refers to her as the 'first Indian woman on the moon'. This is completely false. Not only is she not the first Indian woman on the moon, there have been no women at all on the moon as yet. She did live on the ISS for a time, but definitely did not go to the moon! The gross factual errors alone show the credibility of the claim.
Sober kacche request kono scientific tottho ba chhobi dile tar authentic source dia deben doya kore.
Thanks,
কেস-৪.
আর একদিন এরকম আর একটা ইমেইল পেলাম্, তাতে একটি ছবি, যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন লোক একটি কোরান শরিফ পোড়াচ্ছে।
ছবির নিচে লেখা,
“NON-MUSLIMS BURNING THE HOLY QURAN… ”
উল্লেখ্য এই মেইলটি যে পাঠিয়েছিল সে গ্রুপের একজন মডারেটরও বটে।
এরপর আমি মিথ্যা তথ্য এবং ইমেইল ফরোয়ার্ডিংয়ের বিষয়ে একটি মেইল পোষ্ট করি। আসলে গ্রুপের সাধারন সদস্যদের প্রতারিত করা হচ্ছে লক্ষ্য করে বিষয়টা আমি ডিটেইলে লেখার চেষ্টা করেছিলাম।
আমার পুরো ইমেইলটি এখানে দিলাম,
// বন্ধুরা, স্পর্শকাতর ইমেইল ফরোয়ার্ডের আগে সতর্ক হোন
গ্রুপে এমন কিছু ইমেইল ফরোয়ার্ডেড হয়ে আসে যা ভাল কোনো প্রবনতা নয় বলেই আমার মনে হয়। কয়েকটি উদাহরন আমি এখানে তুলে ধরছি। এক্ষেত্রে মডারেটররা কি কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন?
১ এপ্রিল লুসি একটা ইমেইল ফরোয়ার্ড করেছে তাতে প্রথম লাইনে লেখা,
“We are still crazy about Indian CULTURE, MOVIES, DRESSES, TRADE, etc.”
প্রথম লাইনটির অনেকটাই সত্যতা রয়েছে।বিশেষত হিন্দি কালচারের অন্ধ জনপ্রিয়তা যে একইসাথে অকল্যাণকর অনেককিছুও বয়ে আনছে তা অনস্বীকার্য। এই বৃষ্টি-নামাই গ্রুপেই আমি দেখেছি অনেক হিন্দী কনটেন্টের উপস্থিতি।
যাইহোক এটা নিয়ে একটা বিতর্ক চলতেই পারে। আমার আপত্তিটা সেখানে নয়।
ইমেইলটিতে এর পরেই দেখবেন একটি ছবি যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন লোক একটি কোরান শরিফ পোড়াচ্ছে।
ছবির নিচে লেখা, "নন মুসলিমস বার্নিং দ্য হলি কোরান" লক্ষ্য করবেন কে বা কারা কোরান শরিফ পোড়াচ্ছে তা স্পেসিফাই না করে বলা হচ্ছে নন-মুসলিমরা এটা করেছ। ভারতেই প্রায় ১২০ কোটি নন-মুসলিম রয়েছে। তারা সবাই কোরান শরিফ পোড়াচ্ছে এরকম একটা মেসেজ-ই কি এই ইমেইলে দেওয়া হচ্ছে? সাবেজক্ট লাইনে লেখা, “ Indian Burning The QURAN ("নন মুসলিমস বার্নিং দ্য কোরান") ” অর্থাত সকল ভারতীয় কোরান শরিফ পোড়ানোর কাজে লিপ্ত! মনে রাখা দরকার এধরনের অসত্য মেসেজ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ভারতীয়দের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গুজরাটের দাঙ্গার সময় যখন অজস্র মুসলিম নিহত-অত্যাচারিত হচ্ছে তখন অরুন্ধতী রায় নামক একজন নন-মুসলিম লেখিকা মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের পুংখানুপুঙ্খ বিবরন এবং দুষ্কৃতকারীদের প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রশ্রয়ের কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছেন এবং এর প্রতিকারের লক্ষে ভারতের অভ্যন্তরে জনমত গড়ে তুলছেন। যে কোনো সম্প্রদায় বা দেশের সদস্য বা নাগরিক হয়েও মহত কাজ করা যায় এটা বিশ্বে অনেক ব্যাক্তিই দেখিয়েছেন । এর জন্য প্রয়োজন উন্নত মনুষত্ব এবং জাতী ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের প্রতি ভালবাসা।
মেইলটিতে বলা হচ্ছে, “KINDLY PASS ON TO UR NEAR & DEAR ONEZ THIS AN EXC PICTURE ” কিন্তু ছবি বা খবরের কোনো সুত্র পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি।
পরিষ্কারভবেই বুঝা যায় এরকম ইমেইলগুলো ছড়ানো হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে।বলা হচ্ছে “KINDLY PASS ON TO UR NEAR & DEAR ONEZ ” লক্ষ্য করবেন সত্যাসত্য যাচাইয়ের কথা বলা হচ্ছে না।অনেক বন্ধু হয়ত পুরোটা না জেনেবুঝেই মেইলগুলো ফরোয়ার্ড করছেন। তাদেরকে সচেতন করার জন্যই আমার এই ইমেইল।
বন্ধুরা আমি একটা উদাহরন দিচ্ছি; ১৯৯০ সালে চট্টগ্রামে এবং অন্যান্য স্থানে মন্দির ভাঙা এবং পোড়ানোর মত বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছিল। আবার ২০০১ সালে নির্বাচনের পরবর্তী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখালঘুদের ওপর লুটপাট ধর্ষন-নীপিড়নের ঘটনা ঘটেছিল। কেউ যদি সেসব ঘটনার ছবি ইন্টারনেটে পোস্ট করে বলে, “দেখ মুসলমানরা মন্দির ভাঙছে” বা “বাংলাদেশীরা মন্দির ভাংছে” সেটাকি সত্যভাষন হবে?
না হবেনা কারন এটা হবে একদল অপরাধী বা উগ্রবাদীর কাজকে দেশের বা সম্প্রদায়ের সব সদস্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা। সাম্প্রদায়িক দূরভিসন্ধিসম্পন্ন মহলগুলো সে চেষ্টাটাই করছে।
আমি যে ইমেইলটির বিষয়ে কথা কলছি সেটাতেও একই অশুভ চেষ্টা করা হয়েছে। কোরান-শরীফ পোড়নোর মত স্পর্শকাতর বিষয়ের ছবি দেখিয়ে সাধারন ধর্মপ্রান মানুষের মনে হিংসা ছড়ানোর অশুভ চেষ্টা করা হয়েছে।
সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে হিংসা বাড়লে লাভবান হবে কেবল সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো। আমাদের প্রয়োজন মানুষে-মানুষে ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করা হিংসা না ছড়িয়ে শান্তি ছড়ানো। আমরা হিংসার বিস্তৃতি চাইনা শান্তির বিস্তৃতি চাই।
ভারতে শিবসেনা এবং আরো কতিপয় উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন (অনুরুপ উগ্রবাদী মুসলিম সংগঠন আমাদের দেশেও শাখা প্রশাখা বিস্তার করছে)উগ্র সাম্প্রদায়ীক কাজকর্ম পরিচালনা করছে বহুদিন ধরেই। মুসলিম বিরোধী যেকোনো হঠকারী কাজ তারা করতে পারে এবং আগেও করেছে। যাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে সেখানকার রাজনৈতিক দল বিজেপি।কিন্তু এরকম চরম হঠকারী কোনো কাজের জন্য পুরো ভারত বাসীকে বা সকল অমুসলীমকে দায়ী করে যারা ইমেইল ছড়াচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য হিংসা আর বিদ্বেষ ছড়ানো ছাড়া আর কি-ই বা হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন, এজন্য বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ এধরনের মেইল ফরোয়ার্ড করার একটু সতর্কতা অবলম্বন করূন। আর লুসি যেহেতু গ্রুপের একজন মডারেটরও তাই তার কাছ থেকে আরো দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করি।
২. ১৩ মার্চ Follow ur own Heart একটা ইমেইল ফরোয়ার্ড করেছে সেটার সাবজেক্ট লাইন ছিল,
Fw: MIRACLE... Moon Split- SubhanAllah
এখানে চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর দাগসমেত কয়েকটি ছবি দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, চন্দ্র যে দ্বি-খন্ডিত হয়েছিল এই দাগ তারই প্রমান।
ছবির কোনো সায়েন্টিফিক সোর্স উল্লেখ নেই। বলা হচ্ছে, এটা প্রমানিত। কিন্তু আমি অনেক খুঁজেও এ বিষয়ে কোনো অথেনটিক তথ্য পাইনি।
২৮ মার্চ একই রকমের মেইল ফরোয়ার্ড করেছে, Chowdhury, Mamun"Mamun.Chowdhury@unilever.com, সেখানে বলা হয়েছে, Sunita Williams ( First Indian woman who went on moon) accepted "ISLAM" Masha Allah, bcoz when they were on the moon, they saw towards EARTH, the entire EARTH looked dark, but 2 places on the EARTH looked like SPARKS (Roshni). They were shocked to see that and saw them with the help of telescope and................................
আমি নিযে এবং বিভিন্ন সুত্রের মাধ্যমে খোঁজ করে দেখেছি তথ্যগুলো সত্য নয়।
যেসব তথ্য সত্য নয় তা অন্যের কাছে ফরোয়ার্ড করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?
এ ব্যাপারে অন্যান্য বন্ধুদের মতামতও জানতে আগ্রহী।
আর একটি কথা, বিভিন্ন গ্রুপে এবং ব্লগে এখন বাংলায়(ইউনিকাডে)লেখালেখির চল শুরু হয়েছে। এ গ্রুপেও বাংলা চিঠিগুলো বাংলায় দেখতে চাই।
সবাই ভাল থাকবেন এ প্রত্যাশায়,
..........
..........//
লক্ষ্যনীয় ব্যপার হল এ মেইলটা গ্রুপে অ্যাপ্রুভ approve করা হলনা এবং এরপর থেকে মডারটররা আমাকে বিশেষভাবে মার্ক করে রাখে। অথচ এই গ্রুপেই কদিন আগে পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে তৈরী লম্বা বানানো গল্প পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা অ্যাপ্রুভডapproved হল। এমনকি কোরান শরিফ পোড়ানোর ছবি সম্বলিত চরম সাম্প্রদায়িক উষ্কানীপুর্ন মেইলও অ্যাপ্রুভড approved হতে সমস্যা হলনা। আমি লক্ষ্য করলাম মডারেটররা এ জাতীয় ইমেইলগুলোকে দারুন ভাবে ব্যাক করছে।
আমার শেষ মেইল এবং প্রতিবাদ স্বরুপ গ্রুপ ত্যাগ
কেস-৫.
এর পর একটা ইমেইল পেলাম তাতে লেখা,
AN EXCELLENT EXAMPLE OF HIJAB
এর নিচে দুটো ছবি, দুটো ললিপপ একটা খোলা এবং একটা আচ্ছাদিত দেখা যাচ্ছে খোলাটাতে মাছি বসছে এবং অন্যটিতে মাছি বসছে না।
আমি উত্তর দিলাম,
দু:খিত, উদাহরনটি মোটেও একসেলেন্ট মনে হচ্ছে না।
মানুষ কিন্তু এমন পরিবেশও তৈরি করেছে এবং করতে জানে যেখানে একটা ললিপপ খোলা রাখলেও সেটা পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং মাছি বসবে না।
আবার পরিবেশ ভাল না করতে পারলে ঢেকে রাখলেও সেটায় পচন ধরতে পারে মাছি হয়ত বসছে না কিন্তু ব্যাকটোরিয়া ফার্মান্টেশন ঘটাচ্ছে।
হিজাব এবং তরুনীর সাপেক্ষে চিন্তা করলে পরিবেশের স্থানে সভ্যতা শব্দটি বসিয়ে নিন।
......
কিন্তু যথারীতি সেটা approve অ্যাপ্রুভ করা হল না। আমি কারন জানতে চাইলাম। তার উত্তরে মডারেটরররা যে উত্তর আমাকে ব্যাক্তিগত মেইল এড্রেসে পাঠাল তা একেবারেই অশোভন তাত বুঝলাম তারা কোনো ধরনের জবাবদিহিতাতো দুরে থাক ব্যখ্যা দিতেও রাজী নন। তাদের উত্তর এখানে এটাচ কর দিলাম।
যার একটি কারনও গ্রহনযোগ্য ছিল না। এরপর আমি একটি প্রতিবাদ সুচক ইমেইল পাঠাই এবং গ্রুপ ত্যাগ করি।
প্রতিবাদ সুচক ইমেইল
১. মেইল approvঅ্যাপ্রুভড না হওয়ার কারনটা গ্রহনযোগ্য নয়। আগেও আমার মেইল অ্যাপ্রুভ approve না করার অদ্ভুত সব কারন দেখানো হয়েছিল। এগুলোর কোনোটাই যথার্থ মনে হয়নি।
২. দুজন মডারেটেরর মেইল পড়ে যা বুঝলাম তা হলো তারা তাদের কাজের ব্যখ্যা দিতে রাজী নন। নিজেদের সমালোচণা তারা ওয়েলকাম করছেন না। আবার এসব কর্মকান্ড গ্রুপের অন্যরা জানুক এটাও তারা চাচ্ছেন না।
৩. গ্রুপে ঝামেলা সৃষ্টির মতো কোনো কিছু করার আগ্রহ সময় বা প্রবৃত্তি কোনেটাই আমার নেই। তবে কোনো লেখা সাধারনত তখনই approve হয়না যখন সেখানে অশালীন/আক্রমনাত্মক/সাম্প্রদায়িক/ ইত্যাদি উপাদান থাকে। আমার ১০ বছরের লেখালেখি জীবনে এমন অপবাদ কখনো শুনিনি। তাই মেইল approve না হওয়ায় নিজেকে একটু ইনসালটেড মনে হয়েছে বৈকি। জাষ্টিসটা ঠিক হলো কিনা দেখার জন্য গ্রপের অন্য কয়েকজন বন্ধুকে মেইলটা সিসি করেছিলাম এতে দোষের কিছু দেখছিনা।
৪. এই গ্রুপে এটা আমার সর্বশেষ মেইল। আমার গ্রুপ ছেড়ে দেওয়াটা একটা ছোট্ট প্রটেস্ট, কিন্তু কোনো গ্রুপে গ্রুপ মেম্বারের এটুকুই করার থাকে। আমি ১ বছর এ গ্রুপে ছিলাম। এর মধ্যে যেসব বন্ধুদের কাছ থেকে সুন্দর এবং মজার কিছু কনটেন্ট পেয়েছি তাদের প্রতি কৃত জ্ঞতা ।
সবাইকে ধন্যবাদ এবং বিদায়,
এখানে মুল সম্যাটা হল কু-সংস্কারমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার চেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান ধারনা সম্পন্ন মেসেজই মডারেটরের চোখে বেশি গ্রহনযোগ্য বলে মনে হয়েছে যা খুবই দূর্ভাগ্যজনক। আমার আরো মনে হয়েছে পরিকল্পিতভাবে সহজ সরল মানুষদের এরা ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রতারিত করছে। এই ইমেইল গ্রপটির নাম বৃষ্টি-নামাই Bristi_Namai@yahoogroups.com ।
গ্রুপের ৩-৪ জন সদস্য অবশ্য মডারেটররদের এমন আচরনের প্রতিবাদ করেছিলেন।
ইন্টারনেটে সাম্প্রদায়ীক এবং জাতী বা ধর্ম ভিত্তিক হিংসা ছড়ানোর অশুভ চেষ্টা প্রতিহত করতে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকলেরই এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সকলকে শুভেচ্ছা,
ধানসিঁড়ি
** আরো বেশকিছু উদাহরন ছিল কিন্তু মেইলের দৈর্ঘ এমনিতেই পাঠকের বিরক্তি উদ্রেক করার মতো লম্বা হয়ে গেল তাই বিরত থাকলাম।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, প্রতিক্রিয়াশীল ;
No comments:
Post a Comment